সৌদির অবরোধে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের মুখে ইয়েমেন: জাতিসংঘ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ নভেম্বর ২০১৭ | ০৬:০৮ | আপডেট: ০৯ নভেম্বর ২০১৭ | ০৬:৩৯
সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ইয়েমেনে প্রবেশের সব পথ বন্ধ করে দেওয়ায় দেশটি স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষে পতিত হতে যাচ্ছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ।
আকাশ, নৌ ও স্থলপথে অবরোধের কারণে যুদ্ধবিধস্ত ইয়েমেনে দ্রুত সাহায্য পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন জাতিসংঘের মানবিক বিষয় সংক্রান্ত আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল মার্ক লোকক। বুধবার নিরাপত্তা পরিষদে এক ব্রিফিং শেষে অবরোধ সরিয়ে নিতে সৌদি জোটের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সোমবার রিয়াদের বাদশা খালেদ বিমানবন্দরের কাছে হুতিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার পর ইয়েমেনে প্রবেশের সব পথ বন্ধ করে দেয় সৌদি জোট। ইয়েমেনের বেশিরভাগ এলাকার নিয়ন্ত্রণ হুতিদের হাতে। তাদের এ ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে 'বিপজ্জনক মাত্রাবৃদ্ধি' বলেও অভিহিত করা হয়েছে। তেহরান যাতে ইয়েমেনে অস্ত্র পাঠাতে না পারে সেজন্য এ অবরোধ বলেও বিবৃতিতে জানিয়েছে সৌদি জোট। এদিকে হুতিদের অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে ইরান।
জীবন রক্ষাকারী সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল লাখ লাখ ইয়েমেনির 'বিপর্যয়কর পরিস্থিতি' নিয়ে এ সপ্তাহের শুরুতে জাতিসংঘ ও রেড ক্রস সতর্ক করেছে। রেড ক্রস বলেছে, ক্লোরিন ট্যাবলেটের তাদের একটি চালান অবরোধে আটকে গেছে। অন্তত ৯ লাখ ইয়েমেনি কলেরা মহামারির ঝুঁকিতে রয়েছে। তাদের জন্য এ ট্যাবলেট সরবরাহ করা জরুরি।
জাতিসংঘ বলেছে, অবরোধ না সরলে ইয়েমেনে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ হবে। দেশটির লাখ লাখ নাগরিক এ বৃহত্তম দুর্ভিক্ষের শিকার হবে, যা গত কয়েক দশকেও দেখেনি বিশ্ব।
বিবিসির তথ্যানুযায়ী, যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনের সিংহভাগ নাগরিক বাইরের দেশগুলোর সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু অবরোধের কারণে এখন খাদ্য, জ্বালানি, ওষুধ কিছুই দেশটিতে পৌঁছানো যাচ্ছে না।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, ২০১৫ সালে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হস্তক্ষেপ করায় সেখানকার পরিস্থিতির ক্রমাবনতি ঘটছে। দুই বছরে দেশটিতে প্রায় ৯ হাজার লোকের মৃত্যু হয়েছে, যাদের ৬০ শতাংশ বেসামরিক নাগরিক। সূত্র: বিবিসি।